সিলেট প্রতিক্ষণ



নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই / ১১ / ২০২৬


শাহজালালের মাজারে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা, স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা


74

Shares


সোয়া ৭০০ বছরের অধিক সময়ের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হলো হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা। এতে মিলেছে ৪৭ লাখের অধিক টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রূপা।

 আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে টাকা গণনা শুরু হয়। গণনা শেষে বিকাল সোয়া ছয়টার দিকে দানের প্রাপ্ত টাকার হিসাব ঘোষণা করেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি জানান, দানের টাকা গণনায়- ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রূপী, ২২ কাতারের দিরহাম, ৬ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, আরব আমিরাতের ৫৪ দিরহাম ২০ পয়সা, ইন্দোনেশিয়ান ৪ হাজার রূপিয়া, ৬০ পাকিস্তানি রূপি ও ১০ সিঙ্গাপুরি ডলার। পাশাপাশি দানের বাঙ্ ও ডেগে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণ সদৃশ্য বস্তু ও ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রোপা পাওয়া গেছে। 

এছাড়া এই সময়ের মধ্যে ১টি গরু, ৬৫টি ছাগল দান হিসেবে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দানের গরু ও ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। ২৫টি ছাগল ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। 




এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় গণনা শুরু হয়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন দরগাহ মাদ্রাসার ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীরা।

গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দানবাঙ্রে টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে আলোকে আজ প্রকাশ্যে টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

টাকা গণনা কার্যক্রম শুরু করতে শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারে আসেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, একই কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা ও সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছসহ মাজার সংশ্লিষ্টরা। 

পরে তারা মাজারের ঐতিহাসিক দানের তিনটি ডেগ সিলগালা অবস্থা থেকে খোলা হয়। ডেগ থেকে টাকা বস্তাবন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় মসজিদের সামনের খোলা প্রাঙ্গণে। সেখানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা টাকা গণনা শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। 

এর আগে মাজারের আয় ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে প্রথমবার উদ্যোগ নেন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি গত ১২ জুন বেলা দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান। সেখানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দানবাঙ্ েতালা দেন। এরপর ১৮ জুন বিকেল চারটার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে নতুন দানবাঙ্ স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। একই সময়ে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ সিলেটের সীমানা ছাড়িয়ে দেশব্যাপি আলোচিত হয়। এর পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেন অনেকে। এরকম পরিস্থিতির মধ্যে গত ২১ জুন মো. সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এ নিয়েও মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। এরকম পরিস্থিতিতে ২২ জুন আকস্মিক দরগাহে গিয়ে মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাঙ্গুলো খুলে প্রথমবারের মতো দানের টাকা গণনার ব্যবস্থা করেন সারওয়ার আলম। প্রায় চার ঘন্টা ধরে গণনা শেষে দেখা যায় চার দিনে জমা পড়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে টাকাগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।






ওয়াইএফ/০৪

সিলেট প্রতিক্ষণ