সিলেট প্রতিক্ষণ



নিজস্ব প্রতিবেদক

অগাস্ট / ২১ / ২০২৬


প্রেম নয়, চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে তিন খুন


51

Shares


সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া (৪০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় ধরা পড়ার ভয়ে ওই তিনজনকে একাই হত্যা করেছে বাবুল মিয়া। জবানবন্দিতে বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।

আদালতে বাবুলের জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, ‘স্বীকারোক্তিতে সে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে তিনজনকে খুন করে বলে জানিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা আসামির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জবানবন্দিতে বাবুল মিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।’

এদিন বেলা ১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগরের সুবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শিপলু চৌধুরীর নেতৃত্বে বাবুল মিয়াকে আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার আগ পর্যন্ত সময় নিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বাবুল মিয়াকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার খাস কামরায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, ‘রিমান্ডে তার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সে আদালতে জানিয়েছে, গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রেমসংক্রান্ত বিষয়টি পুলিশের কাছে নাকি ভয়ে স্বীকার করেছে। চুরির উদ্দেশ্যেই ওই বাসায় গিয়েছিল। ধরা পড়ার ভয়ে একাই তিনজনকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।’ 

তিনি বলেণ, ‘আদালতে জবানবন্দিতেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। পরবর্তীতে প্রেস ব্রিফিং করে সবকিছু খোলাসা করা হবে।’

নাম প্রকাশ না করে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল বলেছেন, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে তিনি ওই বাসায় চুরি করতে ঢুকেছিলেন। বাসায় প্রবেশের পর গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের কাছে ধরা পড়ে যান তিনি। এরপর নিজের অপরাধ আড়াল করতে একে একে তাহমিনা বেগম, গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করেন।’

গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় খুন হন গৃহকর্তা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)। বাসা থেকে তাদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

ওইদিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনা সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, ‘ ‘বাবুল পেশায় রঙ মিস্ত্রি। আমার মাঝে মাঝে সে কসাইয়ের কাজও করে। তার সঙ্গে ওই বাসায় খুন হওয়া গৃহপরিচারিকা তাহমিনার ১৫-২০ দিনের রিলেশন ছিল। বুধবার সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে বাবুল ওই বাড়িতে যায়। গৃহপরিচারিকা দরজা খুলে দেয়। তাদের হয়তো পূর্ব থেকে শারীরিক সম্পর্কের একটা অভিপ্রায় ছিল।’ সেই কাজ করতে গিয়ে ওই গৃহপরিচারিকার সঙ্গে বাবুলের কথা কাটাকাটি হয় জানিয়ে তিনি বলেণ, ‘কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাবুল সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করে। এসময় শব্দ শুনে বাড়ির মালিকের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম দৌড়ে আসেন। তখন বাবুল তাকেও আঘাত করে হত্যা করে। চিৎকার শুনে বাড়ির মালিক আব্দুস সত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে প্রথমে ধস্তাধস্তি হয় এবং পরে তাকেও হত্যা করে বাবুল।’ এরপর বাবুল জানালা দিয়ে বের হয়ে ব্যালকনির গ্রীল না থাকায় সহজেই দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।’ 

গ্রেপ্তার হওয়া বাবুলকে রবিবার (১৬ আগস্ট) আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


ওয়াইএফ/০১

সিলেট প্রতিক্ষণ