19
Sharesনৌকাবাইচের ঘোষণা, কথিত ‘তৌহিদী জনতা’র বাঁধা, অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে অনুষ্ঠিত হলো আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমান।
আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে ‘লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজ’-এর আয়োজনে ৩০ তম নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
এর আগে দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। সোনাই নদীর বুকে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ ও নৌকার সাঁই সাঁই গতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্যবাহী এই লড়াই উপভোগ করতে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন গ্রামবাংলার প্রাচীন এই আনন্দ উৎসব দেখতে।
এবারের আসরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে আসা তিনটি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলোর নাম—‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’। নৌকাগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দর্শকদের বাড়তি রোমাঞ্চ দেয়।
আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একটি পক্ষ ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে নৌকাবাইচটি বন্ধের দাবি জানালে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের মধ্যস্থতা ও পদক্ষেপে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য অনুষ্ঠানস্থলে হাজার হাজার মানুষের সমাগম থাকলেও সেখানে পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোনাই নদীর এই নৌকাবাইচ বিয়ানীবাজারের বহু বছরের পুরনো সংস্কৃতি। কোনো ধরনের উশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতার কারণে এই গ্রামীণ ঐতিহ্য বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত এমন আয়োজন বজায় থাকলে একদিকে যেমন লোকজ সংস্কৃতি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের বিনোদনের সুযোগও বাড়বে।
ওয়াইএফ/০৩