সিলেট প্রতিক্ষণ



নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই / ১৩ / ২০২৬


চাকরির পরীক্ষা শেষে নিখোঁজ সিলেটের তরুণ, দুই দিন পর মিলল মরদেহ


70

Shares


সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন সিলেটের জকিগঞ্জের তরুণ মাহবুব সারওয়ার রাজন (২৫)। পরীক্ষা শেষে উপবন এক্সপ্রেসে সিলেট ফেরার কথা থাকলেও এরপর থেকেই তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নিখোঁজের দুই দিন পর হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রেললাইনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

নিহত রাজন সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গন্ধদত্ত গ্রামের আবুল কালাম (কালু মিয়া)–এর ছেলে। আট মাস আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সরকারি একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে কয়েক দিন আগে ঢাকায় যান রাজন।

শুক্রবার পরীক্ষা শেষে উপবন এক্সপ্রেসে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

রাজনের বড় ভাই মাহবুব হাসান মুন্না বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিই।

রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধারের খবর ও ছবি দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে নিশ্চিত হই, সেটি রাজনের মরদেহ।’

পুলিশ জানায়, রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে রাজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহতের চাচা কামরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘কিভাবে রাজনের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি রহস্যজনক।’ তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান রবিবার রাত প্রায় আড়াইটার দিকে হবিগঞ্জের বাহুবল এলাকায় পাওয়া গেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিরস্ত্র মো. রাশেদ পারভেজ ছায়িম।

তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’

সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’





সিলেট প্রতিক্ষণ