148
Sharesএকতরফা সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগেই তিনি ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন। কেন তা করেছিলেন, তা এখন স্পষ্ট। এ আশঙ্কাই এতদিন করছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা।
মাত্র একজন একনায়ক পুতিন ইউক্রেনের লাখ লাখ মানুষকে তাদের নিজেদের এবং দেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। ইউক্রেনবাসীর ভাগ্য কি হবে, তারা কিভাবে শাসিত হবে, তা অবশ্যই রাশিয়া ঠিক করে দেয়ার কথা নয়। তবু রাশিয়া যা করেছে তার মধ্য দিয়ে নিজেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছেন ভøাদিমির পুতিন।
সিএনএনের সাংবাদিক স্টিফেন কলিনসন এক বিশ্লেষণে এসব কথা লিখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে জানেন। তিনি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তার ওপর ভিত্তি করে অনেক আগেই পূর্বাভাষ দেয়া হয়েছে যে- রাশিয়া পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করবে। আর সেটাই তারা শুরু করেছে। শীতলযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অসম্মানই পেয়ে আসছেন পুতিন। এতে তার মধ্যে ক্ষোভ জমা হয়েছে।
এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলে ন্যাটোর সম্প্রসারণ, বিশেষ করে পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং হাঙ্গেরিতে এই সম্প্রসারণে ক্ষুব্ধ রাশিয়া, তথা পুতিন। ফলে ইস্যুটি ইউক্রেনভিত্তিক হলেও ব্যাপক অর্থে তা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের এখন প্রাথমিক অবস্থা। কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না। রাশিয়ান সেনাবাহিনী কি ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়বে তা স্পষ্ট নয়।
এটাও বলা যাচ্ছে না, আসলে রাশিয়ানদের উদ্দেশ্য কিÑ তারা কি ইউক্রেনের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়! অথবা এই অবৈধ আগ্রাসন বিদ্রোহ সৃষ্টি করতে পারে। তাতে নিহত হতে পারেন বিপুল রাশিয়ান সেনা এবং এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রেসিডেন্ট পুতিনের শাসনযন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
রাশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিআইএর সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা পল কোলবে বলেছেন, ফ্রান্স অথবা জার্মানির চেয়ে বৃহৎ একটি দেশের পক্ষ থেকে এই আগ্রাসন চালানো হয়েছে। এতে রাশিয়ানদের জন্যই একটি অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এক রকম জুয়া হয়ে উঠতে পারে তাদের সামনে। কোলবে সিএনএন’কে বলেছেন, পরিস্থিতি এমন যে পুতিন একটি সজারু গিলে ফেলার চেষ্টা করছেন আর রাশিয়ান ভালুকদের শোনাতে চাইছেন, তিনি এটাকে হজম করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই আগ্রাসন পুতিনের পক্ষে যাক বা না যাক- লড়াইটা অনেক মাস এবং বছর ধরে চলবে। ইউরোপের আকার পাল্টে দিতে যাচ্ছেন পুতিন। ইউক্রেনের ভিতরে, দেশটির পশ্চিমের সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর ঠিক পূর্বে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের চেম্বারে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য একত্রিত হয়েছিলেন কূটনীতিকরা। এতে সভাপতিত্ব করেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত।
তবে তিনি সেখানে এই বৈঠক নিয়ে বিদ্রুপ করেন। কিন্তু শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে আগ্রাসন বন্ধের জন্য করুণ আকুতি জানান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ। তিনি বলেন, আমার হৃদয়ের গভীর থেকে একটি কথাই বলার আছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন, ইউক্রেন হামলা থেকে আপনাদের সেনাদের থামান। শান্তি স্থাপনে সুযোগ দিন। এরই মধ্যে অনেক মানুষ মারা গেছেন।
কিন্তু সেই আহ্বান পুতিনের কর্ণকুহরে প্রবেশ করেছে বলে মনে হয় না। তিনি ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়েছেন। এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে তিনি কি এখানেই থামবেন, নাকি পুরো ইউক্রেনকে দখল করে নেবেন?