আন্তর্জাতিক



ডেস্ক রিপোর্ট

ফেব্রুয়ারী / ২৩ / ২০২২


news part

মিউজিয়াম অব দ্যা ফিউচার দুবাইয়ে বিশ্বের 'জীবন্ত গবেষণাগার' উন্মোচিত


137

Shares

তাক লাগানো নির্মাণ শৈলি, প্রযুক্তির উৎকর্ষতা আর ভবিষ্যতের দুবাইকে এক ছাদের নিচে প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত হলো "মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার"। বরাবরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ শহর দুবাই অবিশ্বাস্য ভবন, রেকর্ড ভাঙা কীর্তি এবং প্রযুক্তিগত বিস্ময়ের ক্ষেত্রে ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে,যা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার শীর্ষে। এখন এই আশ্চর্যজনক ‘মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার’ ভবনটিকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর জাদুঘরের তালিকায় স্থান করে দেয়া হয়েছে।

মিউজিয়ামটির উদ্বোধন করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মাদ বিন রাশিদ আল মাকতূম। এতে অংশ নেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স এবং দুবাই এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম ও আমিরাতের অর্থমন্ত্রী শেখ মাকতুম বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য দরজা খোলা থাকবে। টিকিটের দাম ১৪৫ দিরহাম।

যা বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে তিন হাজার টাকার বেশি। তিন বছরের কম বয়সী শিশু এবং প্রতিবন্ধীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে। এই মিউজিয়াম প্রযুক্তিগত ভাবে মূলত ভবিষ্যতের পৃথিবী কেমন হবে তারই ব্যাখ্যা দিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই মিউজিয়ামটি শুধু যে মিউজিয়াম তা কিন্তু নয়, এর মধ্যে থাকছে গ্লোবাল ইন্টেল্যাকচুয়াল সেন্টার।

এছাড়া এটি একটি ‘জীবন্ত গবেষণাগার’। যা আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক উদ্ভাবনের চেতনাকে উৎসাহিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতের শীর্ষ চ্যালেঞ্জগুলির জন্য নতুন নতুন সমাধানগুলোকে সামনে এনে সহযোগিতা করতে পারবে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের ভাষ্যমতে, দুবাইয়ের মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার তার আকর্ষণীয় নকশার কারণে বিশ্বের সুন্দরতম জাদুঘরের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। চোখের আকৃতির অবকাঠামো এটিকে একটি অনন্য নকশাতে পরিণত করেছে। চোখের মতো আকৃতি, মাঝখানে ফাঁকা।

যা ৩০ হাজার বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং ৭-তলা বা ৭৭ মিটার উঁচু। যা নির্মাণ করতে সময় লেগেছে প্রায় ৯ বছর। ভবিষ্যতের জাদুঘর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ অন্বেষণ করবে এখানে এবং শেখ মোহাম্মদ আগে বলেছিলেন যে এটি হবে ‘ধারণার জন্য একটি ইনকিউবেটর, উদ্ভাবনের চালক এবং সারা বিশ্বের উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের গন্তব্য’।

বিশ্বের সুন্দর জাদুঘের তালিকায় স্থান করে নেওয়া অন্যান্য জাদুঘরের মধ্যে রয়েছে- চীনের সাংহাই জাদুঘর, মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটনের আফ্রিকান আমেরিকান ইতিহাস ও সংস্কৃতির জাতীয় জাদুঘর এবং স্পেনের গুগেনহাইম বিলবাও জাদুঘর। ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এবং দুবাই ফিউচার ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আল গেরগাবি বলেছেন, “দুবাই নিজেকে সৃজনশীলতার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মহামান্য শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক। দুবাই মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচারের মতো একটি স্থাপত্য নিদর্শনের অলৌকিকতায় আমিরাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয় যা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশ্বব্যাপী বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর জাদুঘর হিসেবে স্বীকৃত।

আন্তর্জাতিক