সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ প্রতিবেদক

সেপ্টেম্বর / ১৯ / ২০২৬


শাহজালালের মাজারে দানের টাকায় মিলল ৮৯লাখ টাকা, স্বর্ণ ও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা


87

Shares


প্রায় সোয়া ৭০০ বছরের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকার। প্রায় সাড়ে ৭ ঘন্টা গননা শেষে মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ নগদ টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৬টি গরু ও ১১১টি ছাগল দান হিসেবে পাওয়া গেছে।  

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দানবাক্সগুলো ও ঐতিহাসিক পিতলের তিনটি ডেকচির দানের টাকা একত্র করে গণনা শুরু হয়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

গণনা শেষে বিকাল সাড়ে পাঁচার পর প্রাপ্তির হিসাব ঘোষণা করেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি জানান, দানের টাকা গণনায়- নগদ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি সোনা পাওয়া গেছে। এছাড়া ব্রিটেনের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, আমেরিকার ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাইরাইনের ২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া। 

গত ৩৫ দিনে দরগাহ মাজারে ৬টি গরু ও ১১১ ছাগল দান হিসেবে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩টি গরু লঙ্গরখানায় রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে, ২টি গরু দিয়ে আখনি রান্না করে সবার মাঝে বিতরণ হয়েছে এবং আরো একটি গরু গরীব একটি পরিবারের বিয়েতে দেওয়া হয়েছে। ৭০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে। ৪০টি ছাগল বিক্রি করে কর্মীদের মজুরি দেওয়া হয়েছে। ১টি ছাগল গরীব পরিবারের বিয়েতে দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে ১৫ আগস্ট সর্বশেষ দানবাক্স বাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা শেষে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও স্বর্ণ ও রূপার সামগ্রী পাওয়া যায়।

সর্বপ্রথম গত ২২ জুন দানবক্স প্রকাশ্যে খুলে গণনা করা হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের ডেগ ও দানবাক্স সিলেগালা করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় ওইদিন অর্থ গণনা শেষে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, সাত আনা সোনা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ ছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি একটি গরু, ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।

এদিকে মাজারের আয়-ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে স্থানীয় সংসদসদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউজে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর ১১ জুলাই তাদের তত্ত্বাবধানে প্রথমবার টাকা গণনা হয়। শনিবার চতুর্থবারের মতো টাকা গণনা হয়। 

তবে গঠিত কমিটি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কাজ শুরুর এক মাসের মধ্যে কমিটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত জমা দেওয়ার কথা বললেও গঠনের পর প্রায় আড়াই মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও কমিটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা রূপরেখা দিতে পারেনি।


ওয়াইএফ/০৪

সিলেট প্রতিক্ষণ