192
Sharesবাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘ক্ষুদে ডাক্তার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ বিষয়ক এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ উদ্যোগের আওতায় ক্ষুদে ডাক্তারের ভূমিকায় দেখতে পাওয়া যাবে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের।
গত ২২ থেকে ২৮ জানুয়ারি এই কার্যক্রম হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনার কারণে ২১ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা আর করা সম্ভব হয়নি। সোমবার (৭ মার্চ) নতুন সময়সীমা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি)। আগামী ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এমন উদ্যোগ এর আগে কখনও দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে ও দলগতভাবে কাজ করার এমনকি সুশৃঙ্খলভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে এমন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে গঠন করা হবে ক্ষুদে ডাক্তার দল। আর প্রাথমিক প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে তারা শিক্ষার্থীদের ওজন, উচ্চতা ও দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা করে অস্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, দৃষ্টি শক্তির ত্রুটিসহ নানান বিষয় শিক্ষকের নজরে আনবেন।
মাউশি পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো. বেলাল হোসাইন সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত টেকনিক্যাল কমিটির সভায় আগামী ২০ মার্চ থেকে ‘জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ’ এবং ওমিক্রন সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্থগিত হওয়া জানুয়ারি মাসের নির্ধারিত ‘ক্ষুদে ডাক্তার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ কার্যক্রমটি আগামী ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল সময়কালীন পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ক্ষুদে ডাক্তার কর্তৃক স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রমটি শুধুমাত্র ১২-১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম বা সমপর্যায়ের শ্রেণিসমূহে পরিচালিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীসহ ১২-১৬ বছর বয়সী বিদ্যালয়গামী ও বিদ্যালয় বহির্ভূত (পথশিশু, কর্মজীবি শিশু, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী) সকল শিশুকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে এক ডোজ কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করানো হবে। ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রমের আওতায় কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সমপর্যায়ের মাদ্রাসাসহ দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষুদে ডাক্তারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
এই কার্যক্রমগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের সহযোগিতা প্রদান করতে বলা হয়েছে।