23
Sharesঅবশেষে ইসরাইলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ প্রধানমন্ত্রীত্বের অবসান ঘটতে চলেছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিয়ে একটি জোট গঠনের জন্য প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান হারজোগ আইজেনকোট ২৮ দিন সময় পাচ্ছেন।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন গাদি আইজেনকোটকে; এই প্রক্রিয়ায় তিনি আইজেনকোটের প্রতিদ্বন্দ্বী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এড়িয়ে গেছেন।
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হারজোগ আইজেনকোটকে তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান। আজ রবিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট তুলে দেওয়া হবে।
২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে—তা নিয়ে এই সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ।
আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোসহ মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতা ‘ইয়াশার’ (Yashar) পার্টির নেতা আইজেনকোটকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এর মোট আসন সংখ্যা ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। আইজেনকোট এখন একটি জোট গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাচ্ছেন, প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।
অক্টোবরের নির্বাচনে আইজেনকোটের চার দলীয় জোট ৪৮টি আসন পায়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট পায় ৫৩টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া, ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন জয় করেছে।
আইজেনকোট আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সাথে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন; অথচ তাদের সাথে নিলে তিনি ৬৭ আসনের একটি জোট গঠন করতে পারতেন। অন্যদিকে, দুটি অতি-অর্থোডক্স দল—‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ এবং ‘শাস’-কে পাশে পেলে তিনি ঠিক ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারবেন।
এছাড়া, পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারলে তিনি ৬১টির চেয়ে কম আসন নিয়েও সরকার গঠন করতে পারেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আল জাজিরার নূর ওদেহ হারজোগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানান যে, আইজেনকোটকে মনোনীত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট “পূর্বানুমানযোগ্য পথই” বেছে নিয়েছেন, কারণ তার পক্ষে সবচেয়ে বেশি সুপারিশ এসেছিল।
নূর ওদেহ বলেন, “আইজেনকোটের এখন কঠিন কাজ শুরু হলো—এমন একটি সরকার গঠন করা, যা নেসেট বা পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে। এই সরকারকে দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে: প্রথমত, নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর খুব বেশি যেন ভঙ্গ না হয়; এবং দ্বিতীয়ত, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের বিরোধিতা সত্ত্বেও যেন সরকার টিকে থাকতে পারে।”
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইজেনকোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে, হারজোগ অন্য একজনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করবেন। দ্বিতীয় মনোনীত ব্যক্তিও যদি ব্যর্থ হন, তবে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারবেন, যাকে সরকার গঠনের জন্য আরও ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে।
যদি তখনও কোনো সরকার গঠিত না হয়, তবে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়া হবে এবং এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ওয়াইএফ/০২