83
Sharesহযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের প্রায় সাড়ে ৭০০ বছরের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে মাজারের দানের অর্থের গণনা।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা শুরু হয়। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত কমিটির ব্যবস্থাপনায় এ গণনা চলছে। এতে মাদরাসার শিক্ষার্থী, মাজার কমিটির সদস্য ও জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন।
চতুর্থবারের মতো অর্থ গণনা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
এর আগে ১৫ আগস্ট সর্বশেষ দানবাক্স বাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা শেষে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও স্বর্ণ ও রূপার সামগ্রী পাওয়া যায়।
সর্বপ্রথম গত ২২ জুন দানবক্স প্রকাশ্যে খুলে গণনা করা হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের ডেগ ও দানবাক্স সিলেগালা করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় ওইদিন অর্থ গণনা শেষে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, সাত আনা সোনা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ ছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি একটি গরু, ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।
মাজার পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সিলেটের এই মাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আসেন। তাদের অনেকে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দান করেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব বাক্স খোলা হয়।
ওয়াইএফ/০৩