শিক্ষা



ডেস্ক রিপোর্ট

মার্চ / ০৮ / ২০২২


corona

২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ১১ ধরনের অভিযোগ


186

Shares

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইন লঙ্ঘনে বরাবরই পটু। আইন ভাঙলেও ব্যবস্থা নেয়া হয় খুবই অল্প। এবার ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ। আর দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ১১ ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ মিলেছে। ইউজিসি বলছে, অনেক দিন ধরেই সতর্ক করা হয়েছে এসব বিশ্ববিদ্যালকে। চিহ্নিত বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত সিটিং অ্যালাউন্স, জমি কেনায় অনিয়ম, গাড়ি কেনায় অনিয়ম, বিদেশ ভ্রমণ, অবৈধ কোটা, অনুমোদনের আগেই শিক্ষা কার্যক্রম, ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে দ্বন্দ্ব, বিদেশে টাকা পাচার, শিক্ষকদের ভুয়া পিএইচডি, স্থায়ী ঠিকানা না থাকা, সনদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সঠিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় বন্ধ হচ্ছে ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি (চুয়াডাঙ্গা) ও টাইমস ইউনিভার্সিটি (ফরিদপুর)।

ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আছে গুরুতর অভিযোগ। ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন না মিললেও চলমান আছে কলা ও মানবিক অনুষদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও বিজ্ঞান অনুষদ। একই অপরাধ আছে টাইমস ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধেও। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টিও অনুমোদন ছাড়া চালাচ্ছে ১০টি প্রোগ্রাম। চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি) বিরুদ্ধে রয়েছে ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্বের অভিযোগ। এ ছাড়াও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে জমি কেনার অনিয়ম। ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার নেই স্থায়ী কোনো ঠিকানা। আবার তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে সনদ বিক্রির অভিযোগ।

সনদ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায় আমেরিকা-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধেও। একই অভিযোগ আছে সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধেও। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা অতিরিক্ত অ্যালাউন্স গ্রহণ, জমি ও গাড়ি কেনায় অনিয়ম, বিদেশ ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে নিয়ম বহির্ভূত কোটা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ শিক্ষকদের ভুয়া পিএইচডি গ্রহণ, বিদেশে টাকা পাচার ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের দ্বন্দ্ব। ইউজিসি সূত্রে আরও জানা যায়, গুরুতর অভিযোগ মেলা এই সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে আসতে পারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। আর বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে লঘু শাস্তি ও ভবিষ্যতে না করার শর্তে সতর্ক বার্তা প্রদান করা হবে।

ইউজিসি কর্তৃক প্রকাশিত সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। মাত্র ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত জমিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়েছে। ফাউন্ডেশনের নামে জমিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ২টি বিশ্ববিদ্যালয়। নির্ধারিত জমিতে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়। আইনের থেকে কম জমিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে ২টি বিশ্ববিদ্যালয়। নির্ধারিত ক্যাম্পাস নির্মাণাধীন ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের। আইন মেনে নিজস্ব জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেনি ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বছরে সিন্ডিকেটের কোনো সভা হয়নি ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের।

একাডেমিক কাউন্সিলের কোনো সভা হয়নি ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের। অর্থ-কমিটির কোনো সভা হয়নি ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের। আর মাত্র ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বারা নিয়োগকৃত নিরীক্ষা ফার্ম থেকে নিরীক্ষা সম্পাদন করে কমিশনে প্রেরণ করেছে। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরই ৬ মাসের সেমিস্টার করার কথা বলা হলেও আইনের তোয়াক্কা না করে সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ৪ মাসের সেমিস্টার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, তদন্ত কমিটির এখনো ফল আসেনি। একেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একেকটা অভিযোগ। কিছু বিষয় ইউজিসি নিজেই কার্যকর করবে।

আর যে বিষয়গুলো ইউজিসির নিজেদের কার্যকর করার ক্ষমতা নাই সেগুলো ইউজিসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠাবে। তিনি আরও বলেন, ইউজিসি এই বিষয়ে জিরো টলারেন্সে যাবে। ইউজিসি বহুদিন ধরেই বলে থাকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে। আর যেহেতু শিক্ষার্থীদের জীবন জড়িত তাই আমরা হঠাৎ করে কোনো অ্যাকশনে যেতে পারি না। এখন আমরা আইনগতভাবে যেসব করার সুযোগ আছে সেগুলো করবো।

শিক্ষা