283
Sharesদেশে ভোজ্যতেলের বাজার এখন লাগামহীন। গেল সোয়া এক বছরে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে ঘন ঘন দাম বাড়ানোয় নাভিশ্বাস উঠেছে ভোক্তাদের।
এমন পরিস্থিতিতে গত রোববার বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম সরকার বেঁধে দেয় ১৬৮ টাকা, ৫ লিটারের দাম ৭৯৫টাকা। এ দামও নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদিকে রমজান আসন্ন। এমতাবস্থায় সয়াবিন তেলের দাম কমবে কিনা প্রশ্নে বক্তব্য দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
তিনি জানিয়েছেন, দাম কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ভোজ্যতেল আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট কমছে। একইসঙ্গে ভোজ্যতেল উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান তিনি। সোমবার দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। দাম কমবে কি না ব্রাজিল বলতে পারবে, কারণ ৯০ শতাংশ তেল আমরা সেখান থেকে আমদানি করি।
তেলের দাম কমাতে পণ্য মজুদকরণে নিরুৎসাহিত করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, রমজান উপলক্ষে দেশে কোনো পণ্য সংকট নেই। টিপু মুনশি বলেন, আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ দ্রব্য মজুদ আছে। সেটা দিয়ে রমজান মাস পার হয়ে যাবে।
এখন দামটা কেমন হবে সেটি কথা হতে পারে। কেউ কেউ মজুত করে রাখছে, সেটি বড় সমস্যা। যার পাঁচ লিটার তেল দরকার সে ১০ লিটার কিনলে ঠেকাতে পারবো না। রমজান উপলক্ষে সবাই কিনতে শুরু করলে তো বাজারে ঘাটতি দেখা দেবেই। যতটুকু কেনা দরকার ততটুকুই কিনি। সবার রান্নাঘরে তো আমরা ঢুকতে পারবো না। রমজান মাসের জন্য বেশি না কেনার অনুরোধ করছি। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, টিসিবিও এক কোটি পরিবারকে পণ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে। পণ্যের দাম কমতেও তো পারে।
আমরা চেষ্টা করছি রমজান পর্যন্ত আগের দামটা রাখার জন্য। কিন্তু ব্যবসায়ী ব্যবসা করবেই। বাইরের দেশের কোম্পানিগুলো রমজান বা ঈদে ডিসকাউন্টসহ বিভিন্ন অফার দেয়, আমাদের দেশে সেটি নেই। আমরা চেষ্টা করছি, রমজান পর্যন্ত আগের দামটা রাখার জন্য। আমরা এক হাজার ৩৫০ ডলার দাম ধরে ১৬৮ টাকা প্রতি লিটার তেলার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি। বর্তমাসে সে তেল এক হাজার ৯০০ ডলার হয়ে গেছে। আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। এসআরও হলে পরে আমরা সঠিক দামটা বলতে পারবো।
আজ অথবা কালকের মধ্যে আশা করছি চিঠিটা আমরা পেয়ে যাব। এর আগে সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শুধু ভোজ্য তেল নয়, চিনি বা যেগুলো বেশি প্রয়োজনীয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে ভ্যাট কমাতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, দাম সহনীয় রাখতে রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ভোক্তা পর্যায়ে নিত্যপণ্যের ভ্যাট তুলে দেওয়াসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। গতকালের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। সচিব আরো বলেন বলেন, ভোজ্য তেলের রিটেইলার (ভোক্তা) পর্যায়ে ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী এসআরওতে সই করেছেন বলে জানিয়েছেন। আজ নতুন একটা বিষয় সভায় আলোচনা হলে।
এনবিআরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ইমপোর্ট পর্যায়ে যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, সেটা কতটুকু কমানো যায় দেখতে হবে এবং যথাসম্ভব কমাতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট কমালে আমাদের ধারণা এর ডিরেক্ট পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে।