82
Sharesস্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত ব্যয়, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার সকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট বাজেটের প্রায় ৬ শতাংশ। অতীতে এ খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশই সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যথাসময়ে ও কার্যকরভাবে ব্যয় না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, পরিকল্পনার দুর্বলতা, জনবল সংকট এবং প্রকৃত প্রয়োজন নির্ধারণ ছাড়াই অবকাঠামো নির্মাণের কারণে অনেক হাসপাতাল ও ভবন পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় জরুরি ভিত্তিতে জনবল প্রয়োজন এবং কোথায় দীর্ঘমেয়াদি জনবল কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি দুই মাস অন্তর পর্যালোচনা সভা আয়োজন এবং তার আগে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো সরেজমিন পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা বাস্তবভিত্তিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের দেশে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দক্ষতা, সমন্বয় ও সুশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মনিরসহ বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরসি-০৩