211
Sharesসিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সাথে বৈঠক শেষেদিনভর দুর্ভোগের পর রাতে কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার দিনভর জনসাধারনের দুর্ভোগের পর রাত ১০ টায় কর্মবিরতি স্থগিত করেন শ্রমিকরা। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টায় সিলেট সার্কিট হাউসে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠক শেষে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের সব দাবি মেনে নেবেন এবং আগামীকাল থেকে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করবেন। তাদের আশ্বাসে প্রেক্ষিতে এবং এসএসসি পরীক্ষা ও দুর্গা পূজার কথা বিবেচনা করে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মবিরতি স্থগিত রাখছি। আশা করছি এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পুরণ হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও ‘সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ’র নেতারা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে পাঁচ দফা দাবিতে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন পরিবহন শ্রমিকরা। বুধবার থেকে বিভাগের ৪ জেলায় এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা।
পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে দিনভর কার্যত অচল ছিলো সিলেট। সকাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন মোড়ে ও নগরের প্রবেশ পথে লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেন পরিবহন শ্রমিকরা। ব্যক্তিগত গাড়ি, পন্যবাহি গাড়ি এমনকি বিআরটিসি বাস চলাচলেও বাধা দেন তারা। শ্রমিকদের পিকেটিংয়ের কারনে রাতপর্যন্ত কোন গাড়িই সড়কে চলাচল করতে পারে নি।
বন্ধ ছিলো সিএনজি চালিত অটোরিকশাও। এতে চরম দুর্ভোগে পরেন যাত্রীরা। দুরপাল্লার যাত্রীদের পাশাপাশি নগরের ভেতরে চলাচলকারী যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
উল্লেখ্য সিলেট বিভাগের সব পরিবহন শ্রমিক কিছুদিন ধরে ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতি পালনসহ মিছিল-সভা করে আসছেন।
দাবিগুলো হচ্ছে- সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার ও উপ-কমিশনারের (ট্রাফিক) অপসারণ, ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি ও রেকার বাণিজ্যসহ মাত্রাতিরিক্ত জরিমানা বন্ধ, সিলেটে শ্রম আদালতের প্রতিনিধি শ্রমিক লীগের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারকারী নাজমুল আলম রোমেনকে প্রত্যাহার, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া, ভাঙাচোরা রাস্তাগুলোর দ্রুত সংস্কার এবং নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিক্রি বন্ধ ও বিক্রয়কৃত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া। এছাড়াও অনুমোদনহীন গাড়ি যেমন- অটোবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ডাম্পিংকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবহন শ্রমিকগণ।