242
Sharesমোহাম্মদপুর নগর মাতৃসদন করোনা টিকাদান কেন্দ্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। কেন্দ্রটি নিজেদের মতো করে এখনো টিকা দেয়ার নিয়ম চালু রেখেছে। রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার কথা বলেছিল অধিদপ্তর। কিন্তু কেন্দ্রটিতে এই নির্দেশনার কোনো বালাই নেই। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত টিকাপ্রত্যাশীরা। হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রটিতে টিকা নিতে আসেন ৪০ বছর বয়সী আনোয়ারা বেগম। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তিনি টিকা নিতে পারেননি।
কেন্দ্রটির কর্তাব্যক্তিরা সাফ তাকে জানিয়ে দেন, টিকা নিতে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন লাগবে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম দু’দিন আগে জানিয়েছিলেন, যারা প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেননি তাদেরকে দ্রুত টিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, গত ২৬শে ফেব্রুয়ারির পর থেকে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ রাখা হবে।
এরপর দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ নিয়ে তারা ব্যস্ত থাকবেন। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অথবা মারা যাওয়াদের অধিকাংশই টিকা নেননি। অপরদিকে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের মৃত্যুহারসহ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও কম।
যারা এখনো করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজ নেননি, তাদের বিলম্ব না করে বাসার পাশের টিকাদান কেন্দ্র থেকে দ্রুত টিকা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। গত বুধবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চ্যুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর (এমএনসিএএইচ অ্যান্ড পিএইচসি) ডা. শামসুল ইসলাম বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি এক কোটি ডোজ টিকা দেয়া হবে। এখন থেকে টিকার প্রথম ডোজ নিতে রেজিস্ট্রেশন বা জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হবে না।
২৬শে ফেব্রুয়ারিও টিকা নিতে রেজিস্ট্রেশন বা জন্মনিবন্ধন লাগবে না। ডা. শামসুল ইসলাম বলেন, ২৬শে ফেব্রুয়ারি শেষ দিন প্রথম ডোজের টিকাদানের জন্য বড় ধরনের ক্যাম্পেইন হবে। তবে মোহাম্মদপুর করোনা টিকাদান কেন্দ্র নগর মাতৃসদনে সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভিন্ন চিত্র। এই কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত কেউ টিকা পাননি। রেজিস্ট্রেশন কার্ড বাদে টিকা নিতে এসে ফিরে যান আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, শুনলাম এনআইডি কার্ড নিয়ে যেকোনো কেন্দ্রে আসলেই টিকা পাবো।
এখন দেখছি ২৬ তারিখ আসতে হবে। তাই ফিরে যাচ্ছি। কেবল আনোয়ারা বেগম নয়, তার মতো এমন অনেককেই টিকাদান কেন্দ্রে এসে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর নগর মাতৃসদনের কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, শুধুমাত্র ২৬ তারিখে এই কেন্দ্রে এ বুথটিসহ আরও ৮টি বুথ খোলা হবে। ওইদিন টিকা নিতে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের দরকার হবে না। জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন আনলেই পাবে টিকা।
তিনি আরও বলেন, নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হয়। এখানে প্রথম ডোজ গ্রহীতাদের সিনোভ্যাক ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহীতাদের অ্যাস্ট্রাজেনেকা দেয়া হচ্ছে। বুস্টার ডোজ গ্রহীতারা পাচ্ছেন মডার্নার টিকা। উল্লেখ্য, দেশে করোনা প্রতিরোধে টিকা দেয়ার উদ্বোধন হয় ২০২১ সালের ২৭শে জানুয়ারি। এরপর ওই বছরের ৭ই ফেব্রুয়ারি শুরু হয় গণটিকাদান কর্মসূচি।
দুই মাস পর ৮ই এপ্রিল দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম আরম্ভ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। আর ২৮শে ডিসেম্বর তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।