সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

অগাস্ট / ০৪ / ২০২২


প্রবাসী

প্রবাসী পিতা-পুত্রের মৃত্যু হতে পারে জেনারেটরের ধোঁয়ায়


232

Shares

ওসমানীনগরে বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার পাঁচ সদস্যের মধ্যে মারা যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০)ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৮)। পরিবারের অপর ৩ সদস্যকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তাদের মধ্যে মা-ছেলে সুস্থতার দিকে থাকলে তাদের কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। তারা হলেন-নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম (৪৫),ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫)। কিন্তু একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামের (২০) জ্ঞান ফেরেনি ১০ দিনেও।

চিকিৎসকরা বলছেন তার দেহের অর্গানগুলো ক্ষীণভাবে কাজ করছে। তার অবস্থা সত্যিই আশঙ্কাজনক। পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম ও ছেলে সাদিকুল ইসলাম এরইমধ্যে বাসায় ফিরেছেন।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে এসেছে নতুন তথ্য। পুলিশ বলছে, ওই বাসায় সেদিন রাতে জেনারেটরের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি। তবে ফরেনসিক ও ক্যামিকেল রিপোর্ট আসার পরই চূড়ান্তভাবে ধোঁয়াশা কাটবে।

বুধবার দ্বিতীয়বারের মতো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। এসময় তিনি বলেন, আমরা আবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

এসময় হুছনারা বেগম ও সাদিকুল ইসলামকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য থেকে অনেকটা বুঝা যাচ্ছে যে, ওই রাতে তাদের বাসায় যে জেনারেটর চলছিল, সেটি থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছিল।

প্রথম জিজ্ঞাসাবাদের সময় এবং আজও হুছনারা আমাদের বলেছেন- ওই জেনারেটর যখনই চালু করা হতো-তখন তার ছোট ছেলে (মারা যাওয়া) মাইকুলের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যেত। ওই রাতেও জেনারেটরের প্রচুর ধোঁয়া বের হওয়ার ফলে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে প্রবাসীদের এমন অবস্থা হতে পারে, সে সম্ভাবনাই বেশি।

তবে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর। এসপি ফরিদ উদ্দিন আরও বলেন, আমরা আজ যত সময় ওই বাসায় ছিলাম, এর মধ্যে কিছু সময় জেনারেটর চালু ছিল।এই কিছু সময়ের মধ্যে আমাদের মাঝে অস্বস্তিকর অবস্থা শুরু হয়।তাই আমাদের ধারণা মতে-বিষয়টি জেনারেটরের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকেই হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা অধিকতর তদন্তের স্বার্থে জেনারেটরের কিছু ধোঁয়া সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কাছে পাঠিয়েছি। এই পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও খাবারের রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্টগুলো পেলে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।

এ বিষয়ে ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল গফফার বলেন, হুছনারা বেগম ও সাদিকুল ইসলাম এখন পুরোপুরি সুস্থ। আজ বুধবার তারা বাসায় ফিরে গেছেন। তবে ছাতপত্রে তাদের কিছু ওষুধ দেয়া হয়েছে, সেগুলো চলবে।

তিনি বলেন, মা-ছেলে সুস্থ হলেও সামিরার এখনও জ্ঞান ফেরেনি। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।তার কিডনি ও লিভার আগের মতোই কাজ করছে না। গত ২৫ জুলাই ওসমানীনগরের তাজপুর বাজারের মঙ্গলচণ্ডী স্কুল রোডের একটি বাসার একটি কক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজন মারা যান। নিহতরা হলেন- ওসমানীনগর উপজেলা দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাই (খাতুপুর) গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) এবং রফিকুলের ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৮)।

এছাড়া সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম (৪৫), বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫) এবং মেয়ে সামিরা ইসলামকে (২০) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন বিকাল ৩টায় দয়ামীর ইউনিয়নের পারকুল মাদরাসা মাঠে বাবা-ছেলের জানাজা শেষে খাতুপুর গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

এদিকে, ঘটনার দশ দিনের মাথায় হুছনারা বেগম ও সাদিকুল ইসলাম সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরলেও আইসিইউতে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন সামিরা ইসলাম।

সিলেট প্রতিক্ষণ