88
Sharesউড়াল দেওয়ার আগমুহূর্তে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ক্রটির কারণে বিকল হয়ে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২৩৫ বোয়িং ৭৭৭ একটি ফ্লাইট। এতে জেদ্দা অভিমুখী প্রায় ৪১৯ জন ওমরা যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। আটকা পড়ার আরো প্রায় ৫ ঘন্টা পর তাদের সিলেটের বিভিন্ন হোটেলের ব্যবস্থা করে বিমান কর্তৃপক্ষ। অনেকের হোটেলে জায়গা না হওয়ায় বিমানবন্দরে রাত পার করছেন।
সোমবার (৩ আগষ্ট) সিলেট আন্তর্জাতিক ওসমানী বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিমানের উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিয়ে রানওয়েতে যায়। রানওয়েতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় পাইলট রানওয়ে থেকে বিমানকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এরপর মধ্যেরাত পর্যন্ত কোন সমাধান না মেলায় উমরাহ যাত্রীদেরকে সিলেট নগরের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যান বিমান কর্তৃপক্ষ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার) শরীফুল আলম যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিমানটির কারিগরী জটিলতার জন্য প্রায় ৪১৯ জন উমরাহ যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। বিমানবন্দরে আটকা যাত্রীদের নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষও রয়েছে বিপাকে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ বিমানটি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রাউন্ডেড আছে। প্রকৌশলীরা বিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটি সারাবার চেষ্টা করছেন।’
তিনি আরো জানান, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আমরা অপারেশনের সাথে কথা বলেছি এখানে লোকাল ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে প্রয়োজনে বাইরে থেকে ইঞ্জিনিয়ার আনা হবে। তবে কখন পরবর্তী ফ্লাইট হবে এ নিয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান। যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে অথবা বিকল্প বিমান দিয়ে দ্রুততম সময়ে ফ্লাইট দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, বিমানবন্দরে পৌঁছার পর দীর্ঘ ৮ থেকে ৯ ঘন্টা বিমানবন্দরে উমরাহ যাত্রীদের অপেক্ষা শেষে রাত ১২ টায় রাত্রি যাপনের জন্য বিভিন্ন হোটেলে যাত্রীদের নিয়ে যায়। বিমান কর্তৃপকক্ষ বলেন, ‘হঠাৎ একসাথে এতো লোকের জন্য হোটেল ম্যানেজ করা অনেক চ্যালেঞ্জের ব্যাপার।
পবিত্র উমরাহ পালনের জন্য বিয়ানীবাজারের মাথিউরা গ্রাম থেকে এসেছেন তেরাব আলী খাঁন, তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘যদি ত্রুটি থাকে তাহলে বিমান ছাড়ার আগে ফ্লাইং সার্টিফিকেটে কি দেওয়া হয়নি; সেখানে ত্রুটি কেন ধরা পড়েনি। এখানে শত শত বয়স্ক যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করায় অনেকের পা ফুলে গেছে।’
ভুক্তভোগী অনেক বয়স্ক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দূর-দূরান্তের অনেক যাত্রী এতো রাত্রে কোথায় যাবেন কি করবেন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এ নিয়ে বিমানবন্দরে কর্তব্যরত বিমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাত্রীদের অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, এ চাপ সামলাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যাত্রীদের বিষয়টি বুঝাতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। তবে বিমানটি কবে কখন সচল হবে-এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোন সঠিক তথ্য দিতে পারেনি বিমান কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, সিলেট থেকে জেদ্দাগামী বিজি ২৩৬ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদী আরবের জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উমরাহ পালন শেষে অপেক্ষারত শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে যাত্রীদের আগাম কোনো এসএমএস বা আনুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রায় ৪০০ যাত্রী নির্ধারিত সময়ে জেদ্দা বিমানবন্দরে এসে চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরে যাত্রীদের বাসে করে জেদ্দা শহরের বিভিন্ন হোটেলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আগামীকাল কখন ফ্লাইট ছাড়বে, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা বার্তা দেওয়া হয়নি। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীসহ অনেকেই চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ মডেলের ওই উড়োজাহাজটি সোমবার সন্ধ্যা ৭:১০ মিনিটে সিলেট থেকে জেদ্দা ৫ ঘন্টা ১৫ মিনিট উড়ে বাংলাদেশ সময় রাত ১১ টা ১৫ মিনিটে জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল।
ওয়াইএফ/০২