181
Sharesহাওরের জেলা সুনামগঞ্জের বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ২ হাজার পুকুরের মাছ। মৎস্য খামারিরা বলছেন, এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। হাওর ডুবির লোকসান কাটিয়ে উঠার আগেই বন্যায় এমন ক্ষতিতে দিশেহারা তারা। ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহায়তা চান খামারিরা।
জানা যায়, বছরের ৬ মাস ধান আর বাকি ৬ মাস মাছ চাষ-আহরণের জীবিকা নির্বাহ করেন হাওর অঞ্চলের মানুষ। হাওর ডুবির পর নিত্যপণ্যের বাজারে মাছকে ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন খামারিরা। তবে উজানের পানি এসে কেড়ে নিলো মাছচাষিদের মুখের হাসি।
জেলা মৎস্য বিভাগের সূত্রে জানা যায়, বন্যার পনিতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৫০টি পুকুর ভেসে গেছে। এর মধ্যে ১৫০ মেট্রিক টন মাছের পোনা ও ৫০ মেট্রেক টন বড়মাছ ভেসে গেছে। এতে ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রকৃতপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন হাওর সংশিষ্ট সংগঠনের নেতারা। খামারিরা বলছেন, কয়েকদিন পরেই মাছ বাজারে বিক্রি করতে পারতেন তারা। টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুকুরের পানি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও বড় মাছ বেরিয়ে গেছে।
এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতিও হয়েছে। সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের মাছ চাষি চাঁন মিয়া বলেন, ৫টি পুকুরের মাছ চাষ করেছিলাম। ২টি পুকুরে ছিল মাছের রেনু। বাকি ৩টি পুকুরের মাছ বড় হয়ে আসছিল।
আরও ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পরেই পুকুরের মাছ বিক্রি করতে পারতাম। বন্যায় আমারে নিঃস্ব করে গেছে। আমার প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দুর্লভপুর কাওসার বলেন, আমার একটি পুকুরে রই, কাতলা, সরপুঁটি, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। আর কয়েকদিন পরেই বিক্রি করার কথা ছিল।
যার আয় দিয়ে আমার সংসার চলতো এখন সেই পুকুরে একটাও মাছ নেই। প্রায় ৪ লাখ টাকার মাছ বন্যায় ভেসে গেছে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, বন্যায় সুনামগঞ্জে প্রায় ২ হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
তাতে আমাদের প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অনেক মৎস্যচাষি পথে বসার উপক্রম। মাছচাষিদের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরকারের নিকট তুলে ধরে খামারিদের ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাংক থেকে বিনা সুদে ঋণ দিতে হবে। নতুবা খামারিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল বলেন, বন্যায় যে খামারিরা ক্ষতিগস্ত হয়েছেন, তাদের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে সরকার থেকে সাহায্যের আবেদন করা হবে।