112
Sharesঢাকার সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে নেওয়া ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় ৮৯ শতাংশ সময় শেষ হলেও ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২১ শতাংশ।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষা তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
১৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় ঢাকা কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, সার্ভিস লেন, সেতু, কালভার্ট ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, মূল সড়ক নির্মাণে অগ্রগতি ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, সার্ভিস লেনে ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সেতু নির্মাণে ৩১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং কালভার্ট নির্মাণে ৫৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে ভূমি অধিগ্রহণকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণ ও অবমুক্তির হার এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন স্থানান্তরের কাজও উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে আছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তরের অগ্রগতি মাত্র শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং জালালাবাদ গ্যাস লাইনের অগ্রগতি ১৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
আইএমইডির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাত বছর আগে করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সঙ্গে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির অসামঞ্জস্যও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলছে। এ কারণে নতুন করে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস সংযোজন, সড়কের অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার নকশা সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে। এসব পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের অনুমোদন নিতে সময় লাগায় কিছু অংশের নির্মাণকাজ বিলম্বিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় দুর্বল মাটির উপস্থিতির কারণে অনেক স্থানে গ্রাউন্ড ইমপ্রুভমেন্ট ও সাবগ্রেড পরিবর্তনের প্রয়োজন হচ্ছে। এ অতিরিক্ত কারিগরি কাজও বাস্তবায়নের গতি কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমইডি।
এ ছাড়া কয়েকটি লটে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রীর ঘাটতি এবং সাইট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়েও পর্যবেক্ষণ রয়েছে প্রতিবেদনে। জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনবল সংকট, কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ এবং ক্ষতিপূরণ নিয়ে আপত্তির কারণে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে দরপত্র আহ্বান থেকে চুক্তি স্বাক্ষর পর্যন্ত প্রতিটি লটে ১১ থেকে ১৯ মাস সময় লেগেছে।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, কারিগরি দরপত্র মূল্যায়নের অনুমোদনে ২১ থেকে ১১৩ দিন এবং আর্থিক মূল্যায়নের অনুমোদনে ১০ থেকে ৭৬ দিন সময় লেগেছে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে দরপত্রের বৈধতার মেয়াদও একাধিকবার বাড়াতে হয়েছে।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, মহাসড়কটিকে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ করিডোরে রূপান্তরের লক্ষ্যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো যুক্ত করায় প্রকল্পের পরিধি বেড়েছে। বর্তমানে ৯টি ফ্লাইওভার, ৪২টি লাইট ভেহিকুলার আন্ডারপাস, ২২টি ভেহিকুলার আন্ডারপাস এবং ৭৭টি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কে যানজটের কারণে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন ও কাজ পরিচালনাও ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএমইডি বলছে, প্রশাসনিক, কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান করা না গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করা কঠিন হবে। এতে প্রকল্পের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পেতেও বিলম্ব হতে পারে।
আরসি-০৩