97
Sharesজামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। স্পিকারও বলেছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে অদূর ভবিষ্যতে বড় সংকট দেখা দেবে। এসময় সরকারকে উদ্দেশ্য তরে তিনি বলেন, দেশ আবার চোরাবালিতে হারিয়ে যাক বা অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করুক এটা আমরা চাই না।
শনিবার (১ আগস্ট) সিলেটের স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদের ৩৪ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামের আমির বলেন, বর্তমান সরকারকে দেশ থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। সাবেক স্পিকারও বলেছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জাতির সামনে অদূর ভবিষ্যতে বড় সংকট দেখা দেবে`। তিনি বলেন, দেশ আবার চোরাবালিতে হারিয়ে যাক বা অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করুক এটা আমরা চাই না।`
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে দেবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সরকার কিছু প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। একজন প্রকাশ্য দলীয় ব্যক্তি, যিনি পাঁচ থেকে সাত বছর আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন, তাকে নির্বাচন কমিশনে পদায়ন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এই বিষয়গুলোকে উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখছি। আবার যদি স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের কোনো পাঁয়তারা করা হয়, তাহলে সরকারের স্বদিচ্ছা নিয়েই জাতির মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হবে।`
এ ধরনের কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না জানিয়ে তিনি বলে, `আমরাও মেনে নেব না। তবে সরকার যদি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি ভিন্ন বিষয়।’
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি দলের প্রধানই সরকারের প্রধান। দলকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব যেমন তার, তেমনি দেশ পরিচালনার দায়িত্বও তার। প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি দলের ভোটারদের নন, যারা অন্য দলকে ভোট দিয়েছেন কিংবা ভোট দেননি, তাদেরও প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী পুরো দেশের। তাই তাকে দায়িত্ব নিতে হবে।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সবাই একসময় গণভোটের পক্ষে কথা বলেছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে তারা অবস্থান পরিবর্তন করলেন কেন? দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তারা ভাবলেন, এখন যা ইচ্ছা তাই করা যাবে। জনগণের মতামত বা ঐকমত্যের আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু জনগণের রায়কে সম্মান না করলে কী পরিণতি হয়, তার ইতিহাস এই দেশেও আছে, বিশ্বের ইতিহাসেও আছে। সেই পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসিনি। আমরা বিশ্বাস করি, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়িত হলে সমাজে একটি আমূল পরিবর্তন আসবে, যে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় দেশের মানুষ আজও অপেক্ষা করছে।’
ওয়াইএফ/০