সিলেট প্রতিক্ষণ



নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই / ২৯ / ২০২৬


‘বিদ্যালয় জাতীয়করণ পদ্ধতি চালুর চিন্তা সরকারের নেই’


92

Shares


বিদ্যালয় জাতীয়করণ পদ্ধতি চালুর কোনো চিন্তা সরকারের নেই জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘জাতীয়করণ পদ্ধতি অনেক আগে থেকেই বন্ধ এবং এখন এটা চালুর কোনো চিন্তা চেতনা সরকারের নেই।’ এসময় তিনি বলেন, ‘জাতীয়করণ যদি এখন হয়ও তবে তা বিগত দিনগুলোর মতো হবে না।’

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নে যুবসমাজ পরিচালিত ‘গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল আলিম, সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় প্রমুখ। 

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তো আছেই। যদি কোথাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজন পড়ে তখন সেই বিবেচনায় সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। শুধু নেওয়ার জন্য নেবে না।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয়করণ পদ্ধতি অনেক আগে থেকেই বন্ধ এবং এখন এটা চালুর কোনো চিন্তা চেতনা সরকারের নেই।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিগত দিনগুলোতে যেভাবে বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে জাতীয়করণ যদি হয়ও তবে তা বিগত দিনগুলোর মতো হবে না। সরকারি স্ট্যান্ডার্ড বিট করে সেটা হবে। জাতীয়করন যদি হতে হয়, সেটা নতুন নীতিমালায় হবে।’


দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে পৌঁছার পর তিনি একাধিক শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজ খবর নেন। তাদের উদ্দেশ্যে নানা শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা দেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কবিতা পাঠ শুনেন।  

বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশের প্রশংসা করে এসময় ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় আলোর দ্যুতি ছড়াচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানকার শিশুদের শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এই বিদ্যালয়টি অনন্য ভূমিকা পালন করছে।’

তিনি বলেন, ‘টেকসই বাংলাদেশ গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা আমাদের মূল লক্ষ্য। এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান আরো বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী এর আগে সকাল ১০টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধি পাবে। আমরা শিক্ষার বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। অবকাঠামো থেকে শুরু করে প্রযুক্তি সবখানে পরিবর্তন প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরিবর্তন আনার কার্যক্রম চলছে।’

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘এখন থেকে সরকারি কিংবা বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই কঠোরভাবে সরকারি নীতিমালা ও মানদণ্ডের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন (কেপিআই) এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়মিত মনিটরিং করার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।’

দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং অবহেলার প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে প্রতিমন্ত্রী জৈন্তাপুর মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌছালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাঁশিয়া সম্প্রদায়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী খাঁশিয়া পান-সুপারির মালা পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। বিদ্যালয়টি বিশেষভাবে পরিচিত, কারণ এখানে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী খাঁশিয়া সম্প্রদায় ও চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তান।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অংশ নেন, তাদের সঙ্গে হাসি-আনন্দের পরিবেশে মতবিনিময় করেন এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও শিক্ষার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।



ওয়াইএফ/০১

সিলেট প্রতিক্ষণ