104
Sharesহাম-রুবেলার টিকা দেশের বাদ পড়া ছোট ছোট এলাকায়ও ভালোভাবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি রোগী ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য হামের চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
গতকাল সোমবার মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী দেশের একটি শীর্ষ গণমাধ্যমকে বলেন, হাম নিয়ে আইসিসি গুরুত্বপূর্ণ সভা করেছে। প্রায় সব ধরনের অংশীজন সভায় উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা বর্তমান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আইসিসির সভায় হামে কারা আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, আক্রান্ত রোগীর ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম। ৭৪ শতাংশের বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস। ৫ বছর থেকে ১০ বছর বয়স ১৪ শতাংশের। বাকি ২ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি।
মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ‘কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকা) ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো ১৬ লাখ টিকা আছে।’
স্বাস্থ্যসচিব ছাড়াও সভায় উপস্থিত আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের দুজন প্রতিনিধির সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়েছে। তাঁদের একজন বলেছেন, আগেই হামের ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন চূড়ান্ত হয়েছে। সভায় সেই গাইডলাইন ব্যাপকভাবে প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের গাইডলাইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সভায় ছয় মাসের কম বয়সী এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়; কিন্তু এদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির টিকা পরিস্থিতি বা মজুত নিয়েও আলোচনা হয়। আগামী বছর টিকার কোনো ধরনের ঘাটতি যেন না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ব্যাপারেও আলোচনা হয়। নিয়মিত টিকা কর্মসূচিকে জোরদার করতে হলে মাঠপর্যায়ে শূন্য পদে লোক নিয়োগ করতে হবে। এ বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়।
গতকাল সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে গতকাল ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এসব শিশু ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর হামের উপসর্গে ৮১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এ বছর হামে ৯১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের বড় অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। তাদের বড় অংশ কোনো টিকাই পায়নি।
ওয়াইএফ/০১